Duare Ration: ফ্রি রেশন সামগ্রী পেতে সমস্যা! দুয়ারে রেশন পরিষেবা বন্ধ করলো সরকার
Government of West Bengal
পশ্চিমবঙ্গের বহু মানুষের কাছে “দুয়ারে রেশন” প্রকল্প (Duare Ration) ছিল এক ভরসার জায়গা। এই প্রকল্পের মাধ্যমে বাড়ির কাছেই রেশন পৌঁছে যেত, বিশেষত বয়স্ক ও শারীরিকভাবে অক্ষম মানুষদের জন্য এটি ছিল অত্যন্ত উপকারী। তবে এবার সেই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতে চলেছেন লক্ষ লক্ষ মানুষ। কারণ, জুন ২০২৫ থেকে পশ্চিমবঙ্গ সরকার এই প্রকল্প বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। চলুন জেনে নেওয়া যাক এই সিদ্ধান্তের পেছনের কারণ, এর প্রভাব এবং পরবর্তী করণীয় কী হতে পারে।
Duare Ration Service Stop
সরকার সূত্রে জানা গেছে, “দুয়ারে রেশন” প্রকল্প চালাতে গিয়ে খরচ ব্যাপক বেড়ে যাচ্ছিল। এছাড়া কিছু জায়গায় প্রশাসনিক জটিলতা, কারিগরি সমস্যাও দেখা দিচ্ছিল। একাধিক রেশন ডিলার পরিবহন খরচ ও লোকবল সংকটের অভিযোগ তুলেছিলেন, প্রকল্প চালাতে গিয়ে সরকারের বছরে অতিরিক্ত কয়েকশো কোটি টাকা খরচ হচ্ছিল, রেশন পৌঁছে দেওয়ার সময় অনেক জায়গায় সময়মতো পরিষেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছিল না, এই সব দিক বিবেচনা করেই জুন মাস থেকে এই প্রকল্প বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
কারা সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হবেন?
দুয়ারে রেশন প্রকল্প বন্ধ হয়ে গেলে বেশ কয়েকটি শ্রেণীর মানুষ সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়বেন। যেমন – বয়স্ক ও শারীরিকভাবে অক্ষম ব্যক্তি, পাহাড়ি ও দূরবর্তী গ্রামাঞ্চলের বাসিন্দারা, অসুস্থ বা একাকী বসবাসকারী নাগরিকেরা, এই সব মানুষজনের জন্য রেশন দোকানে যাওয়া এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।
বিকল্প ব্যবস্থা কী রাখা হচ্ছে?
সরকার জানিয়েছে, প্রকল্প বন্ধ হলেও সাধারণ রেশন ব্যবস্থা আগের মতোই চালু থাকবে। রাজ্য সরকার কিছু বিকল্প ব্যবস্থার কথাও ভাবছে। রেশন দোকান গুলিতে পরিষেবার সময় সীমা বাড়ানো, বিশেষভাবে সক্ষম মানুষদের জন্য হোম-ডেলিভারি অপশন, ডিজিটাল পদ্ধতিতে রেশন বুকিং ও স্লট নির্ধারণ, তবে এখনো পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত বিকল্পের ঘোষণা হয়নি।
এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলেও চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বিরোধীরা বলছেন, সাধারণ মানুষের ভোগান্তি নিয়ে সরকার উদাসীন। বিরোধী দলের অভিযোগ, এটি গরিব বিরোধী সিদ্ধান্ত, রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জনস্বার্থেই এই পদক্ষেপ, রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আগাম নির্বাচনের আগে এই সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে
উপসংহার
“দুয়ারে রেশন” প্রকল্প বন্ধ হওয়া অনেকের কাছেই এক বড় ধাক্কা। তবে সরকারের দাবি, এটি প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক কারণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ। ভবিষ্যতে কোনো বিকল্প বা উন্নত পরিষেবা চালু হয় কিনা, সেটাই এখন দেখার বিষয়। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানো ও সচেতনতা ছড়ানো এখন খুবই জরুরি।



