ফ্রি রেশন সামগ্রী পাওয়া বন্ধ হচ্ছে? জানুন নতুন সিদ্ধান্তে কী বলছে সরকার
Free Ration Items News

ফ্রি রেশন করোনা সময় থেকে কেন্দ্রীয় সরকার প্রধানমন্ত্রী গরিব কল্যাণ অন্ন যোজনার মাধ্যমে দেশের কোটি কোটি মানুষের কাছে ফ্রি রেশন পৌঁছে দিচ্ছে এবং ২০২৮ পর্যন্ত এই জিনিস দেওয়ার কথা থাকলেও কিন্তু সাম্প্রতিক কিছু রিপোর্ট ও সরকারি সিদ্ধান্ত ঘিরে মানুষের মনে প্রশ্ন উঠেছে বিনামূল্যে রেশন কি এবার বন্ধ হয়ে যাচ্ছে? সরকারি ঘোষণার ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, এই নিয়ে জনমনে দুশ্চিন্তা বাড়ছে। নিচে ধাপে ধাপে বিষয়টি ব্যাখ্যা করা হল।
ফ্রি রেশন বন্ধ হচ্ছে? সরকারের সিদ্ধান্তে আমজনতার দুশ্চিন্তা বেড়েছে
মুলত রাজ্য বা কেন্দ্র সরকারি কর্মীদের মধ্যে কেউ রেশন পাওয়ার যোগ্য নন, কিন্তু দিল্লিতে কিছু সরকারি কর্মী নিজেদের পরিচয় লুকিয়ে এই সামগ্রী নিয়েই যাচ্ছিলেন এবং এইটা জানাজানি হওয়ার পর অনেকের চক্ষু চড়কগাছ হয়ে গেছে। এই সকল কর্মীদের একেবারে ফ্রি রেশন পাওয়া বন্ধ এবং এনাদের বিরুদ্ধে আইন অনুসারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে। আর বাকি সকল মানুষেরা যেমন ভাবে সামগ্রী পাচ্ছিলেন তারা সেই একই রকম ভাবে খাদ্য দ্রব্য পাবেন।
ফ্রি রেশন স্কিমের মেয়াদ
- কেন্দ্রীয় সরকার ২০২৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত PM Garib Kalyan Anna Yojana চালানোর কথা ঘোষণা করেছিল।
- এরপর কি স্কিমটি বন্ধ হবে, নাকি আরও এক্সটেনশন হবে এই নিয়ে কোনও স্পষ্ট ঘোষণা এখনও আসেনি।
- ফ্রি রেশনের পরিমাণ বা তালিকায় কোনও পরিবর্তন আনা হবে কি না, তাও এখনও অস্পষ্ট।
কিছু রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কেন্দ্র যদি এই স্কিম বন্ধ হয়, তাহলে রাজ্যের আর্থিক বোঝা অনেক বেড়ে যাবে ও এর প্রভাব সরাসরি সাধারণ মানুষ ও দরিদ্র শ্রেণির উপরে পড়বে। প্রতি ব্যক্তিকে প্রতি মাসে ৫ কেজি চাল/গম বিনামূল্যে, দাল ও অন্যান্য খাদ্যপণ্য কিছু রাজ্যে অতিরিক্তভাবে দেওয়া হত Priority Household ও Antyodaya Anna Yojana ক্যাটেগরির অন্তর্গত মানুষদের।
গ্রামীণ ও শহরের গরিব মানুষ এই রেশন স্কিমের উপর নির্ভর করেই সংসার চালান, বিশেষত দৈনন্দিন শ্রমিক, নিম্নবিত্ত পরিবার ও বয়স্ক নাগরিকদের মধ্যে এই স্কিম অত্যন্ত জনপ্রিয়। কেন্দ্রের পক্ষে বছরে হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ করে এই স্কিম চালানো কঠিন হয়ে পড়ছে! বাজেট কাটছাঁট এবং রাজস্ব ঘাটতি সামাল দিতেই সম্ভবত এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে ২০২৮ এর পরে বা অনেকেই ভাবছেন ২০২৯ সালের লোকসভা ভোটের কথা মাথায় রেখে এই সময় আরও বৃদ্ধি করা হতে পারে।
ভারতীয় খাদ্য নিগমের (FCI) গুদামে প্রয়োজনীয় খাদ্যশস্য মজুত রাখাও একটা চ্যালেঞ্জ, বেশি সময় ধরে স্কিম চালালে লজিস্টিক সমস্যা ও অপব্যবহার বাড়ার সম্ভাবনা থাকে, সামাজিক মাধ্যমে ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে দেখা যাচ্ছে, মানুষ এই ঘোষণায় চরম উদ্বেগে ভুগছে, বিশেষ করে শহরের বস্তি এলাকা গুলো ও গ্রামীণ অঞ্চলে এই নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। ফ্রি রেশনের বদলে সাবসিডি যুক্ত খাদ্য পণ্য সরবরাহের পথে হাঁটতে পারে।
স্নেহের পরশ প্রকল্পে পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য ১০০০ টাকা সহায়তা দিচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার
ফ্রি রেশন বন্ধ হচ্ছে কি না, সেটি এখনও নিশ্চিত নয়, তবে কিছু সরকারি ইঙ্গিত ও নথিপত্র থেকে পরিষ্কার যে কেন্দ্রীয় সরকার খরচ কমানোর দিকে নজর দিচ্ছে। এই অবস্থায় সাধারণ মানুষের উচিত তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং সরকারি ঘোষণার উপর নজর রাখা। আর অনেকেই ভাবছেন ২০২৮ পর্যন্ত এই নিয়ে কোন সমস্যা হবে না বলেই মনে করা হচ্ছে।



