সুপ্রিম কোর্ট পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে নির্দেশ দেয় যে, ২০০৯ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে জমে থাকা বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (DA) এর ২৫% পরিশোধ করতে হবে তিন মাসের মধ্যে। এই অন্তর্বর্তীকালীন আদেশে প্রায় ৬ লক্ষ রাজ্য সরকারি কর্মচারী উপকৃত হবেন। এই মামলার পরবর্তী শুনানি আগস্টে নির্ধারিত হয়েছে। কিন্তু তারই মাঝে ফের একবারের জন্য সরকারি কর্মীরা নিজেদের পোস্টিং বা ট্রান্সফার নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের প্রতিক্রিয়া DA নিয়ে!
সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের আহ্বায়ক ভাস্কর ঘোষ সুপ্রিম কোর্টের আদেশকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, “সরকার আমাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছে। সুপ্রিম কোর্টের কাছে কৃতজ্ঞতা জানাই আমাদের অধিকার রক্ষার জন্য।” কিন্তু এই কাজ করতে গিয়ে অনেকেই মনে করছেন যে তাদের এই দূরে বদলি করে দেওয়া হচ্ছে। তাই তারা এই সমস্যা নিয়ে ফের একবারের জন্য আদালতে এসেছেন।
DA নিয়ে অগ্রগতি কি?
রাজ্য সরকার সুপ্রিম কোর্টে দাবি করে যে, সম্পূর্ণ বকেয়া ডিএ পরিশোধ করতে গেলে প্রায় ৪১,০০০ কোটি টাকার প্রয়োজন হবে, যা রাজ্যের আর্থিক ভারসাম্যকে বিপর্যস্ত করতে পারে। তবে আদালত অন্তর্বর্তীকালীনভাবে ২৫% পরিশোধের নির্দেশ দেয়। কেন্দ্রীয় সরকার ৫৫% ডিএ প্রদান করছে সেই জায়গায় পশ্চিমবঙ্গ সরকার বর্তমানে ১৮% ডিএ প্রদান করছে, এপ্রিল ২০২৫ এ ৪% বৃদ্ধি সহ, এই ৩৭% পার্থক্য রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে।
অনেক কর্মীরা বক্তব্য যে একজন বা দুইজন হলে ঠিক আছে কিন্তু কিছু দিন আগে এক মহাকরনের কর্মীকে আলিপুরদুয়ারে ট্রান্সফার করা হয়েছে এবং কলকাতা হাইকোর্ট কর্মীদের ট্রাইবুনালে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে এবারে দেখার অপেক্ষা যে আগামী দিনে কি হতে চলেছে এই বিষয়ে। DA নিয়ে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ সুপ্রিম কোর্টের আদেশকে আংশিক জয় হিসেবে দেখছে এবং পূর্ণ ডিএ পরিশোধের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
উপসংহার
তাদের মতে, এই আদেশ রাজ্য সরকারের উপর চাপ সৃষ্টি করবে এবং কর্মচারীদের ন্যায্য অধিকার আদায়ে সহায়ক হবে। সুপ্রিম কোর্টের এই অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। যদিও এটি সম্পূর্ণ সমাধান নয়, তবে এটি কর্মচারীদের অধিকার আদায়ের পথে একটি বড় অগ্রগতি। আগামী আগস্টে মামলার পরবর্তী শুনানিতে পূর্ণ ডিএ পরিশোধের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আশা করা যাচ্ছে।



