ট্রেন্ডিং

অতিরিক্ত কোলেস্টেরলের সমস্যা ও প্রতিকার। কীভাবে হার্ট অ্যাট্যাক থেকে বাচবেন?

কীভাবে এখনকার দিনে নিজের শরীরের মধ্যে থাকা কোলেস্টেরল নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখবেন? সেই নিয়ে আজকে জেনে নিতে চলেছি। বর্তমান পৃথিবীতে সুস্থ শরীরে বসবাস করার জন্য একটা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাড়িয়েছে। প্রত্যেকটি ঘরে ঘরেই কোন না কোন ব্যক্তি দুরারোগ্য দীর্ঘমেয়াদী রোগে আক্রান্ত। পরিবেশ দূষণ, অনিয়মিত খাদ্যাভাস এর পরিবর্তন। LDL ও HDL এর মধ্যে LDL যাদের শরীরে থাকে তাদের সমস্যা নেই এবং অন্যটা বেশি হলেই মানুষের অনেক সমস্যা দেখতে পাওয়া যায়।

উচ্চ কোলেস্টেরল কমানোর সহজ উপায়

জীবন যাত্রা পরিবর্তন এছাড়া আরো অন্যান্য আনুষঙ্গিক কারণে মানবদেহে বিভিন্ন রোগ দীর্ঘমেয়াদি রোগে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে হার্টের অসুখ অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে। রক্তের এই পদার্থের মাত্রা বৃদ্ধি এমন একটি রোগ যেটি হার্টের অসুখকে বাড়িয়ে দেয়। এই মাত্রা ঠিক কত হওয়া উচিত? কি কি নিয়ম মানলে কোলে স্টেরলের মাত্রা সঠিক রাখা যাবে এই সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য থাকতে আজকের এই প্রতিবেদনে।

প্রথমেই জেনে নেওয়া যাক কোলে স্টেরল কি?

রক্তে থাকা একটি মোমের মতো চর্বি জাতীয় পদার্থ যা লিভারের মাধ্যমে উৎপাদিত হয় এবং এটি মাংস, দুগ্ধজাত পণ্য এবং ডিমের মতো প্রাণীজ খাবারের মধ্যেও পাওয়া যায়। মানবদেহের শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রা এটি নির্দিষ্ট পরিমাণে থাকা উচিত। কারণ এই জিনিস খাদ্যকে সঠিকভাবে হজম করতে এবং চর্বি দ্রবণীয় ভিটামিনের শোষণ করতে এবং নির্দিষ্ট হরমোন উৎপাদনে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। কিন্তু এই মাত্রা যদি নির্দিষ্ট পরিমাণের থেকে বেশি হয়ে যায় তখনই একজন ব্যক্তির দেহে নানা রকম সমস্যা তৈরি হয়।

কোলেস্টেরল কয় প্রকার ও কি কি?

কোলেস্টেরল দুই রকম হয় – একটি HDL (High Density Lipoprotein) এবং অন্যটি LDL (Low Density Lipoprotein). এইচডিএল হলো উচ্চ ঘনত্বের লাইপোপ্রোটিন যেটিকে সাধারণত ভাল কোলেস্টেরল এবং এলডিএল হলো লো ঘনত্বের লাইপোপ্রোটিন, যেটিকে খারাপ কোলেস্টেরল বলা হয়। লাইপো প্রোটিন হল একটি প্রোটিন দ্বারা আবদ্ধ চর্বি গুলির ছোট পার্সেল যা রক্তের মাধ্যমে শরীরের চারপাশে বাহিত হয়। এইচডিএল হল লাইপো প্রোটিন যা শরীর থেকে নির্মূল করার জন্য লিভারে কোলেস্টেরল বহন করে।

কীভাবে নিজের হার্ট সুরক্ষিত রাখবেন?

অন্য দিকে, এলডিএল ধমনীতে প্লাক তৈরি করতে পারে, তাদের আটকে দিতে পারে এবং শেষ পর্যন্ত স্ট্রোক বা হার্ট অ্যাটাকের দিকে নিয়ে যেতে পারে। এর থেকে বোঝা যাচ্ছে, আপনার রক্তে এইচডিএলের মাত্রা যত বেশি হবে এবং এলডিএলের মাত্রা যত কম হবে, আপনি তত সুস্থ থাকবেন। এইচডিএল এবং এলডিএল ছাড়াও, ট্রাইগ্লিসারাইড রয়েছে, রক্তে চর্বি যুক্ত পদার্থের আরেকটি রূপ যা হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়।

কোলেস্টেরলের মাত্রা কিভাবে গণনা করা হয়?

হৃদরোগ বিশেষজ্ঞরা সাধারণত রক্তে মোট এলডিএল, এইচডিএল এবং ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা গণনা করতে লিপিড প্যানেল বা লিপিড প্রোফাইল নামে একটি রক্ত পরীক্ষা করা হয়। উচ্চ মাত্রার এলডিএল এবং ট্রাইগ্লিসারাইড এবং কম এইচডিএল রয়েছে, এমন লোকেদের প্রতি কয়েক বছর পরপর এই পরীক্ষা করা উচিত। আদর্শভাবে LDL মাত্রা প্রতি ডেসিলিটার রক্তে 130 মিলিগ্রামের নিচে এবং HDL মাত্রা প্রতি ডেসিলিটারে 40 মিলিগ্রামের উপরে রাখা উচিত। যদিও এই সংখ্যাগুলি বয়স এবং অন্যান্য কারণের উপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হতে পারে।

কিভাবে আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারি?

রক্তে কোলেস্টেরলের মাছটাকে প্রভাবিত করে এমন অনেক কারণ রয়েছে। খাদ্যাভাসের পরিবর্তন, অতিরিক্ত ওজন, ধূমপান এবং শারীরিক ক্রিয়াকলাপ ছাড়াও জেনেটিক কারণে কোলেস্টেরলের মাত্রা বৃদ্ধি পেতে পারে।
রক্তে মোট কোলেস্টেরলের মাত্রাকে প্রভাবিত করে এমন অনেক গুলি কারণ রয়েছে। খাদ্য, ওজন, ধূমপান এবং শারীরিক কার্যকলাপ ছাড়াও বংশগত কারণ গুলি কিছু গুরুত্বপূর্ণ কারণ হতে পারে।

যে সমস্ত প্রক্রিয়াজাতক খাবার বা স্যাচুরেটেড ফ্যাট জাতীয় খাবার কিংবা ভাজা খাবার, অতিরিক্ত মাংস খেলে এলডিএল এবং ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা বেড়ে যায়। অতিরিক্ত ওজন এমন একটি ব্যাধি যেটি বিভিন্ন রোগের কারণ হয়ে দাড়ায়। অতিরিক্ত ওজন হৃদরোগের সম্ভাবনাকে বাড়িয়ে তোলে। এই জন্য একটি আদর্শ ওজন বজায় রাখা খুবই দরকার বিশেষ করে এলডিএল এবং মোট কোলেস্টেরলের মাত্রাকে নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য।

ধূমপান শ্বাস যন্ত্র, ফুসফুস এমন কি হার্টের ক্ষতি করে। ধূমপানের ফলে এইচডিএলের মাত্রা কমে যায় এবং এর ফলে রক্তে এলডিএলের উচ্চ মাত্রা থাকে। এর জন্য ধূমপান ছেড়ে দেওয়া উপযুক্ত কাজ। শারীরিক কার্যকলাপ অর্থাৎ ব্যায়াম বা নিয়ম করে হাটা এই গুলি LDL এর মাত্রা কমাতে সাহায্য করে এবং রক্তে HDL এর মাত্রা বাড়ায়।

ওষুধ ছাড়াই উচ্চ রক্তচাপ কমানোর প্রাকৃতিক ও ঘরোয়া উপায়। ব্লাড প্রেসার কমিয়ে স্বাস্থ্যকর জীবন ফিরে পান

আপনি যদি প্রত্যেক দিন এই অভ্যাস গুলোকে মেনে চলতে পারেন তাহলে আপনার রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা স্বাভাবিক থাকবে। আর যদি কোন ভাবে আপনার শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়ে যায় তাহলেও এই সতর্কীকরণ বার্তা মেনে চলার চেষ্টা করুন সেই সাথে একজন অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে নিজের শরীরকে সুস্থ রাখুন।
Written by Shampa Debnath

Related Articles