চাকরি

গ্রাহক অভিযোগ করলেই চাকরি যাবে সরকারি কর্মচারীর। নতুন শ্রম আইন সমন্ধে বিস্তারিত জেনে নিন

Adv

রাজ্য সরকারি কর্মচারী এবং কেন্দ্র সরকারের অধীনে কর্মরত কর্মচারীদের জন্য রয়েছে এক বিশেষ খবর। আগামী দিনে সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে একগুচ্ছ নতুন নিয়ম কার্যকরী করতে চলেছে কেন্দ্রীয় সরকার। সরকারি চাকরি নিয়ে মানুষের মধ্যে নানাধরনের ধারণা প্রচলিত রয়েছে। অধিকাংশ মানুষের মতেই সরকারি চাকরিতে বিশেষ কিছু কাজ করার প্রয়োজন হয় না। আবার অন্যান্য ক্ষেত্রে কর্মরত ব্যক্তিরা মনে করেন সরকারী চাকরিতে কাজ করার কোনো সময়সীমা নেই, ১০ টা হোক কিংবা ১১ টা অথবা ১২ টা যেকোনো সময় পৌঁছালেই হলো, বেসরকারি ক্ষেত্রের মতো সঠিক সময়ে পৌঁছানোর কোনো প্রয়োজন নেই। কিছু ক্ষেত্রে এমনটা যে হয়না তা নয়। আর তাতেই মানুষকে নানাভাবে বিভিন্ন ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। আর এই কারণেই ইতিপূর্বে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিলো যে, সরকারি কর্মীদের পদোন্নতির বিষয়টি তাদের কর্মক্ষেত্রের পারফরম্যান্স নজরে রেখেই স্থির করা হবে।

তবে এবারে তার থেকে আরও একধাপ এগিয়ে সমগ্র ভারতের বিভিন্ন রাজ্য সরকার এবং কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনস্থ কর্মীদের কর্মক্ষেত্রে কাজ করার প্রক্রিয়া সংক্রান্ত এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিতে চলেছে কেন্দ্রীয় সরকার। আগামী দিনে সমস্ত সরকারি কর্মচারীদের কাজের ক্ষেত্রে ঢিলেমি বন্ধ করার জন্য নতুন শ্রম আইন কার্যকরী করতে চলেছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। হ্যাঁ, এমনটাই জানা গিয়েছে বিভিন্ন রিপোর্ট অনুসারে। যদিও কবে থেকে এই নতুন শ্রম আইন কার্যকরী করা হবে সে সংক্রান্ত বিষয়ে কিছুই জানানো হয়নি কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে। তবে বিভিন্ন সমীক্ষা রিপোর্ট অনুসারে জানা গিয়েছে যে, আগামী বছরে অর্থাৎ ২০২৩ সালের শুরুতেই এই নতুন শ্রম আইন কার্যকরী করতে উদ্যোগী কেন্দ্রীয় সরকার।

Ad

এতোদিন পর্যন্ত সমস্ত ভারতীয় নাগরিকদের মধ্যে এই বিশ্বাস ছিলো যে, সরকারি চাকরিতে কাজ হারানোর কোনো ভয় থাকে না। তবে এবারে এই ধারণাকে পাল্টে দিয়ে নতুন শ্রমনীতির মাধ্যমে সরকারি ক্ষেত্রেও কর্পোরেট সেক্টরের মতো পারফরম্যান্স নির্ভর ব্যবস্থা আনতে চলেছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। অর্থাৎ ২০২৩ সালের ১লা জানুয়ারি থেকে যে শ্রমনীতি কার্যকরী হতে চলেছে তাতে পারফরম্যান্স খারাপ হলেই চাকরি হারাবেন সরকারি কর্মীরা। এর পাশাপাশি আরও কতোগুলি নতুন নিয়ম কার্যকরী করা হবে এই নতুন শ্রমনীতির মাধ্যমে।

উচ্চমাধ্যমিক পাশে গ্রুপ ডি পদে রাজ্যে প্রচুর সংখ্যক কর্মী নিয়োগ

কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে যে নতুন শ্রমনীতি কার্যকরী করা হয়েছে তাতে বলা হয়েছে যে, আগামী দিনে যেসমস্ত সরকারি কর্মচারীদের হাজিরা ঠিকঠাক থাকবেনা, পারফরম্যান্স ঠিকঠাক থাকবে না তাদের কোনোরকম ক্ষতিপূরণ ছাড়াই চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হবে অথবা বাধ্যতামূলকভাবে স্বেচ্ছাবসরে পাঠানো হবে। এমনকী সরকারি চাকুরীজীবিদের বিরুদ্ধে যে স্বজনপোষণের অভিযোগ বারবার আনা হয়ে থাকে তা বন্ধ করার জন্য এই শ্রমনীতিতে বলা হয়েছে যে, যেসমস্ত সরকারি কর্মচারীরা দুর্নীতির সাথে জড়িত থাকবেন বা স্বজন পোষণের মতো কাজগুলিতে মদত দেবেন তাদেরও কোনোরকম ক্ষতিপূরণ ছাড়াই সরাসরি চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হবে কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে।

এক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে জানানো হয়েছে যে, কোনো কর্মী স্বেচ্ছাবসর নিলে যতো বছরের চাকরি বাকি রয়েছে ততো বছরের দু’মাসের বেতন হিসেব করে দিয়ে দেওয়া হবে। অন্যদিকে যদি কোনো কর্মীকে শাস্তিস্বরূপ বাধ্যতামূলকভাবে স্বেচ্ছাবসরে পাঠানো হয় তবে তাকে এক টাকাও ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে না। এমনকী নতুন শ্রমনীতিতে বলা হয়েছে যে, যেকোনো কর্মীকে যেকোনো সময় বরখাস্ত করা সম্ভব। তবে কর্মীদের বরখাস্ত করার সময়ে তাদের তিন মাসের বেতন দেওয়া হবে। সুতরাং, এই নতুন লেবার কোড অনুসারে আগামী দিনে সরকারি চাকরিতেও প্রতিযোগিতা তুঙ্গে পৌঁছতে চলেছে। সুতরাং, এই নতুন লেবার কোড অনুসারে বলা যায় যে, ভবিষ্যতে সরকারি চাকরিও সুরক্ষিত নয়।

ইতিমধ্যেই রেলমন্ত্রকের তরফে এই নতুন লেবার কোড কার্যকরী করা হয়েছে। ইতিপূর্বে রেল মন্ত্রকের তরফে দুর্নীতিতে জড়িত কর্মীদের স্বেচ্ছাবসর নিতে বাধ্য করা হয়েছে, এমনকী এই সকল কর্মীদের পাশাপাশি প্রতিযোগিতার সাথে তাল মিলিয়ে না চলতে পারা বয়স্ক রেলকর্মীরাও রয়েছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

string(110) ""