২০০০ টাকার বেশি UPI লেনদেনে ১৮% GST?

সম্প্রতি কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে এমন একটি প্রস্তাব গিয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে যে ২০০০ টাকার বেশি UPI লেনদেনের উপর ১৮% GST চাপানো হতে পারে! এই প্রস্তাবটি পেশ করেছে একটি প্রাইভেট কনসালটিং ফার্ম, যেটি সরকারের ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেম নিয়ে কাজ করে। যদিও এখনই এটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়, তবে এই প্রস্তাব নিয়ে নাগরিকদের মনে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
UPI লেনদেনে জিএসটি দিতে হবে?
বর্তমানে Unified Payments Interface বা ইউপিআই এর মাধ্যমে দৈনিক কোটি কোটি লেনদেন হচ্ছে, সরকারের তরফে এখনও পর্যন্ত UPI লেনদেনে কোন রকম চার্জ বা নেওয়া হয় না, ২০২৫ এর শুরুতেই রেকর্ড সংখ্যক লেনদেন হয়েছে UPI প্ল্যাটফর্মে, যার অধিকাংশই ছোট পরিমাণ অর্থ স্থানান্তরের জন্য, যেখানে বড় পরিমানের বা ১ লাখের বেশি কোন লেনদেন হয় না।
কেন উঠছে GST বসানোর প্রস্তাব?
ব্যাংক এবং পেমেন্ট গেটওয়ে গুলোর দাবি বিভিন্ন ব্যাংক এবং পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডারদের মতে, তাদের অবকাঠামো ব্যয় ক্রমাগত বেড়ে চলেছে, বিনামূল্যে পরিষেবা দিয়ে লাভজনকভাবে ব্যবসা চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে, তাই তারা সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছে, অন্তত ২০০০ টাকার বেশি ট্রানজ্যাকশনে GST আরোপ করে রেভিনিউ জেনারেট করা হোক।
যদিও কেন্দ্রীয় সরকার এখনো এ বিষয়ে কোন আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি, তবে তারা এই প্রস্তাবটি নিয়ে চিন্তা ভাবনা করছে। এর ফলে – মাঝারি এবং বড় লেনদেনে কিছুটা নিয়ন্ত্রণ আসতে পারে, তবে সাধারণ মানুষ এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা যাতে সমস্যায় না পড়েন, সে বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। এবারে এই সম্পর্কে আরও কিছু তথ্য সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।
কি হতে পারে এর সম্ভাব্য প্রভাব?
- যারা প্রতিদিন ২০০০ টাকার বেশি অনলাইন লেনদেন করেন, তাদের খরচ বাড়বে।
- অনেকেই আবার নগদ লেনদেনের দিকে ফিরে যেতে পারেন, যা ডিজিটাল ইকোনমির পক্ষে ক্ষতিকর।
- ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য চ্যালেঞ্জ
- যারা UPI এর মাধ্যমে দৈনিক বহু ট্রানজ্যাকশন করেন, তাদের উপর অতিরিক্ত ব্যয় চাপবে।
- এতে ছোট ব্যবসায়ীরা ডিজিটাল লেনদেন থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারেন।
ডিজিটাল ইন্ডিয়ার লক্ষ্যের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ কি?
- সরকার অতিরিক্ত রাজস্ব পাবে
- বড় ট্রানজ্যাকশনগুলোর উপর নিয়ন্ত্রণ বাড়বে
- ডিজিটাল লেনদেন নিরুৎসাহিত হতে পারে
- নগদ ব্যবহারের প্রবণতা বাড়তে পারে
মানুষ কি ভাবছে এই প্রস্তাব নিয়ে?
সোশ্যাল মিডিয়া এবং সংবাদমাধ্যমে ইতিমধ্যেই মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে, অনেকে মনে করছেন এটি ডিজিটাল লেনদেনের স্বচ্ছতা নষ্ট করতে পারে, কেউ কেউ বলছেন, বড় অঙ্কের লেনদেনের ক্ষেত্রে সামান্য কর আরোপ অসঙ্গত নয়। কিন্তু এই ট্যাক্স দেওয়া শুরু হলে ফের মানুষ আরেকবারের জন্য নগদ টাকা লেনদেনের দিকে ঝুঁকে যাবে বলে মনে করছেন অনেকেই।



