স্কলারশিপ

ওয়েসিস স্কলারশিপে দেখা গেল নতুন সমস্যা। প্রত্যেককে করতে হবে এই কাজ। নাহলে মিলবে না টাকা।

Adv

পশ্চিমবঙ্গে সংখ্যালঘু শ্রেণীর ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে অন্যতম জনপ্রিয় একটি স্কলারশিপ হল ওয়েসিস স্কলারশিপ। তবে প্রথম থেকেই ওয়েসিস স্কলারশিপ নিয়ে বিতর্ক এবং বিভ্রান্তির শেষ নেই। ওয়েসিস স্কলারশিপের অধীনে আবেদনের প্রক্রিয়া কার্যকরী হওয়ার পরে অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে বেশ কিছু সমস্যা দেখা গিয়েছিলো। এরপর স্কলারশিপ সংক্রান্ত দুর্নীতি বন্ধ করার জন্য রাজ্য সরকারের তরফে বেশ কতোগুলি গাইডলাইন লঞ্চ করা হয়েছিলো, এমনকী কিছুদিন পূর্বে ওয়েসিস স্কলারশিপের জন্য আবেদনের সময়সীমা বাড়িয়ে ১৫ ই জানুয়ারি পর্যন্ত করা হয়েছে। তবে এবারে ওয়েসিস স্কলারশিপ নিয়ে আরও এক নতুন বিতর্কে সূত্রপাত ঘটেছে।

যেসমস্ত ছাত্র-ছাত্রীরা ইতিপূর্বে ওয়েসিস স্কলারশিপের অধীনে অনুদানের জন্য আবেদন করেছিলেন তাদের মধ্যে বেশ কিছু ছাত্র-ছাত্রীর মোবাইলে একটি মেসেজ এসেছে, যাতে বলা হয়েছে উক্ত ছাত্র-ছাত্রীর আধার নম্বরটি এনপিসিএল-এর ক্ষেত্রে উল্লেখিত নেই। আর এই মেসেজ দেখেই স্বভাবতই ছাত্র-ছাত্রীরা এক নতুন দ্বন্দ্বে পড়েছেন। অন্যদিকে, অনেক ছাত্র-ছাত্রীর ক্ষেত্রে মোবাইলে মেসেজ না আসলেও ওয়েসিস স্কলারশিপের স্ট্যাটাস চেক করলেই দেখা যাচ্ছে তাদের আধার স্টাটাসে এই একই বক্তব্য লেখা রয়েছে।

Ad

যেসমস্ত ছাত্র-ছাত্রীদের আধার স্ট্যাটাসে এই লেখাটি রয়েছে অথবা যাদের ফোনে এ বিষয়ক মেসেজ এসেছে তারা আগামী দিনে ওয়েসিস স্কলারশিপের অধীনে অনুদান পাবেন না বলেই জানা গিয়েছে বিভিন্ন সূত্র মারফত। আর তাতেই ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে এই সমস্যার সমাধান নিয়ে নানা ধরনের প্রশ্ন উঠছে। এই প্রশ্নের উত্তর বলতে হয় সমস্ত ছাত্র-ছাত্রীদের ক্ষেত্রে এই মেসেজটি আসছে না বা সকলের ক্ষেত্রে এই স্ট্যাটাসটি শো করছে না। যে সমস্ত ছাত্র-ছাত্রীদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সাথে আধার লিঙ্ক নেই তাদের মোবাইলেই মেসেজ পাঠানো হয়েছে অথবা তাদের স্ট্যাটাসে এইরূপ লেখা রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় বাড়ি পেতে হলে পূরণ করতে হবে এই ফর্ম। নচেৎ পাওয়া যাবেনা বাড়ি

তবে এই সমস্যার সমাধান সম্পর্কেও জানিয়ে দেওয়া হয়েছে ওয়েসিস স্কলারশিপের কর্তৃপক্ষের তরফে। জানা গিয়েছে যে, যেসকল ছাত্র-ছাত্রীদের মোবাইলে এই মেসেজ এসেছে অথবা যাদের আধার স্ট্যাটাসে এই লেখাটি শো করছে তাদের নিজস্ব ব্যাংকে যোগাযোগ করতে হবে এবং ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে এই বিষয়টি সম্পর্কে জানাতে হবে। এরপর ব্যাংক কর্তৃপক্ষের তরফে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এক্ষেত্রে ছাত্র-ছাত্রীদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টের পাসবইয়ের প্রথম পাতার জেরক্স সহ আধার কার্ড প্রয়োজন হতে পারে, এমনকী আধার ভেরিফিকেশনের ক্ষেত্রে কোনো ফর্ম পূরণ করতেও হতে পারে।

তবে এই বিষয়ে যা যা করণীয় তা সম্পর্কে আপনাকে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হবে। তবে এই প্রক্রিয়াগুলি আপনার মোবাইল ফোনে মেসেজ আসার ৭ দিনের মধ্যে অথবা আপনার আধার স্ট্যাটাস চেক করার সাত দিনের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে। ব্যাংক কর্তৃপক্ষের তরফে এই প্রক্রিয়াকরণ সম্পন্ন করা হলেই আপনি নিজের আধার স্ট্যাটাস চেক করলেই দেখতে পাবেন আপনার আধার স্ট্যাটাসে অ্যাক্টিভ লেখা রয়েছে। আর এই অ্যাক্টিভ লেখা চলে আসলেই আপনি আপনার সমস্যার সমাধান পেয়ে যাবেন।

প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, ওয়েসিস স্কলারশিপ সংক্রান্ত দুর্নীতি বন্ধ করার জন্যই রাজ্য সরকারের তরফে বারংবার বিভিন্নভাবে ছাত্র-ছাত্রীদের যাচাই করে নেওয়া হচ্ছে। আর তাই ইতিপূর্বে বারংবার ওয়েসিস স্কলারশিপের অধীনে অনুদান পাওয়ার ক্ষেত্রে ছাত্র-ছাত্রীদের সমস্ত তথ্য সঠিকভাবে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে যেসমস্ত ছাত্র-ছাত্রীদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে আধার লিঙ্ক নেই অথবা আধার লিঙ্ক করার ক্ষেত্রে যেকোনো রকম সমস্যা রয়েছে তাদের পুনরায় আধার সংযোজনের বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্যই এই নতুন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে রাজ্য সরকারের তরফে।

সুতরাং, আপনিও যদি ওয়েসিস স্কলারশিপের অধীনে অনুদানের জন্য আবেদন করে থাকেন তবে অবশ্যই আপনার আবেদনের স্ট্যাটাসটি একবার চেক করে দেখতে পারেন আধার স্ট্যাটাস অ্যাক্টিভ রয়েছে কিনা।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

string(97) ""