
গত কয়েক দিন ধরে পশ্চিমবঙ্গের তাপমাত্রা ক্রমাগত বাড়ছে এবং এরই সঙ্গে তাপপ্রবাহের সতর্কতাও জারি হয়েছে। আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে বিশেষ করে দক্ষিণবঙ্গের জেলা গুলিতে গরমের প্রকোপ থাকবে মারাত্মক। এই পরিস্থিতিতে সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর। গরমে সুস্থ থাকার জন্য এই পুরো প্রতিবেদনটি দেখে নিন।
পশ্চিমবঙ্গে তাপপ্রবাহের সতর্কতা জারি
আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, উল্লেখিত জেলা গুলিতে তাপপ্রবাহের সম্ভাবনা রয়েছে – কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, বাঁকুড়া, পশ্চিম বর্ধমান, পুরুলিয়া, পশ্চিম মেদিনীপুর, এই জেলা গুলিতে দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪ টার মধ্যে বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু যাদের বেরতেই হয় তাদের কিছু কিছু নিয়ম মেনে চলতে হবে সেই সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।
কেমন থাকবে তাপমাত্রা?
- কলকাতা ও আশে পাশের এলাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪১ – ৪৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌছাতে পারে।
- বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, ও মেদিনীপুরে তাপমাত্রা ৪৪ ডিগ্রি ছাড়াতে পারে।
- বাতাসে আর্দ্রতা কম থাকায় গরমের অনুভূতি আরও বেশি তীব্র হবে।
কতদিন চলবে এই গরমের প্রকোপ?
আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, এই তাপপ্রবাহ কমপক্ষে ৩ – ৪ দিন স্থায়ী হতে পারে। এরপর একটি পশ্চিমী ঝঞ্ঝা রাজ্যে প্রবেশ করতে পারে, যার ফলে কিছু এলাকায় সাময়িক বৃষ্টি হতে পারে। তবে সেটি কতটা প্রভাব ফেলবে, তা এখনও নিশ্চিত নয়। আবহাওয়া দফতর ও স্বাস্থ্য দপ্তরের পরামর্শ অনুযায়ী, এই গরমে সাধারণ মানুষকে নিচের সতর্কতাগুলি মানার আহ্বান জানানো হয়েছে।
কী কী সতর্কতা মেনে চলা উচিত?
- রোদে বেশি সময় কাটানো এড়িয়ে চলুন।
- প্রচুর জল ও তরল পানীয় খান।
- হালকা ও ঢিলেঢালা পোশাক পরুন।
- শিশু ও বয়স্কদের বিশেষভাবে সতর্ক রাখুন।
পশ্চিমবঙ্গে গরমের ছুটি শেষ হয়ে কবে খুলবে স্কুল? জানিয়ে দিল শিক্ষা দফতর
সাধারণ মানুষের ওপরে প্রভাব
রাজ্যের শিক্ষা দফতর পরিস্থিতি অনুযায়ী আরও বেশি দিন স্কুল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিতে পারে। অনেক অফিসেও কর্মীদের ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ দেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে। কলকাতা পৌরসভা থেকেও পানীয় জলের ব্যবস্থা করার কথা ঘোষণা করা হয়েছে। তাপপ্রবাহের ফলে কৃষি ক্ষেত্রেও প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে ধান ও সবজির চাষ ক্ষতির মুখে পড়তে পারে। গ্রামাঞ্চলে অনেক জায়গায় জল সংকট দেখা দিতে পারে, তাই জল বাঁচানোর চেষ্টা করা উচিত।



