বকেয়া DA মেটানোর নির্দেশ দিলো সুপ্রিম কোর্ট! রাজ্য সরকার কত শতাংশ বৃদ্ধি করবে ভাতা?
Government Employees Benefits

পশ্চিমবঙ্গের সরকারি কর্মীদের মহার্ঘ ভাতা (DA) নিয়ে বহু দিন ধরে চলতে থাকা আইনি লড়াইয়ে নতুন গতি এসেছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পরে, ৫ আগস্ট ২০২৫ মঙ্গলবার, সুপ্রিম কোর্টে ফের এই মামলার শুনানি শুরু হয়েছে। বিচারপতি সঞ্জয় কারোল ও প্রশান্ত কুমার মিশ্রর বেঞ্চ রাজ্য সরকার ও কর্মচারী সংগঠন গুলিকে হাইকোর্টের আগের রায় নিয়ে তাদের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে বলেছে। সেই রায়ে ডিএ-কে মৌলিক অধিকারের প্রসঙ্গে উল্লেখ করা হয়েছিল।
DA নিয়ে বিচারকদের মন্তব্যে সরকারি কর্মীদের আশার আলো
শুনানির শুরুতেই সুপ্রিম কোর্ট রাজ্য সরকারকে পরামর্শ দেয়, অন্তত কিছুটা ডিএ যেন প্রদান করা হয়। বিচারপতিরা জানান, যারা রাজ্যের বাইরে কর্মরত তারা ডিএ পাচ্ছেন, অথচ রাজ্যের ভিতরে কর্মীরা বঞ্চিত হচ্ছেন এটা স্পষ্ট বৈষম্য। আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, সরকার চাইলেই ডিএ-র আংশিক পরিমাণ মেটাতে পারে। দয়া করে এটি করুন। যে কোনও পরিমাণ দিন, এই মন্তব্যে কর্মীদের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে।
রাজ্য সরকারের যুক্তি DA মৌলিক অধিকার নয়
রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ডিএ কোনও সংবিধান স্বীকৃত মৌলিক অধিকার নয়। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, ডিএকে বাধ্যতামূলকভাবে প্রদানের কোনও আইনগত দায় নেই। প্রতিটি রাজ্য নিজস্ব আর্থিক পরিস্থিতি বিচার করে ডিএ নির্ধারণ করে, কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে ডিএ হার আলাদা হওয়া অস্বাভাবিক নয়। রাজ্যের হয়ে সিনিয়র অ্যাডভোকেট কপিল সিব্বল বলেন, “DA-র জন্য কোনও ইউনিফর্ম পলিসি নেই। প্রতিটি রাজ্য তাদের নিজস্ব সিদ্ধান্তে এটি চালায়।”
কর্মী সংগঠনগুলির পাল্টা প্রশ্ন
সরকারি কর্মচারীদের সংগঠন গুলি প্রশ্ন তুলেছে কেন্দ্রীয় সরকার যেখানে একটি নির্দিষ্ট ডিএ হার অনুসরণ করছে, সেখানে পশ্চিমবঙ্গ সরকার কেন কর্মচারীদের একই সুবিধা দিচ্ছে না? তাদের মতে, ডিএ হলো একটি ন্যায্য দাবি, এবং এটা মৌলিক অধিকার না হলেও কর্মীদের প্রাপ্য।
বিনা পরিশ্রমে ১০০০০ টাকা পাওয়া যাবে পোস্ট অফিস মান্থলি ইনকাম স্কিমে। বিনিয়োগের সকল খুঁটিনাটি একনজরে
মামলার ভবিষ্যৎ প্রভাব
এই মামলার রায় শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গের কর্মীদের জন্য নয়, বরং সারাদেশের ডিএ সংক্রান্ত নীতির ওপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে। আদালতের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে ভবিষ্যতে ডিএ বেতনের একটি স্থায়ী উপাদান হিসেবে গণ্য হতে পারে কিনা, সেটাও নির্ধারিত হবে। পশ্চিমবঙ্গের লক্ষ লক্ষ সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগীরা এখন তাকিয়ে আছেন সুপ্রিম কোর্টের দিকেই। বিচারপতিদের সদিচ্ছা ও যুক্তিসঙ্গত প্রশ্নের পর, আশা করা যায় এই মামলার নিষ্পত্তি শীঘ্রই হবে এবং কর্মীরা তাদের প্রাপ্য অধিকার ফিরে পাবেন।



